ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন— এমন দাবি ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তেহরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, এসব খবর ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পৃথক বক্তব্যে ইঙ্গিত দিয়েছেন, সাম্প্রতিক যৌথ হামলায় খামেনি নিহত হয়ে থাকতে পারেন। তাদের দাবি, হামলার পর পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে এমন ‘ক্রমবর্ধমান ইঙ্গিত’ মিলেছে।
ইসরাইলি গণমাধ্যমেও একই ধরনের খবর প্রচার করা হচ্ছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক ইসরাইলি কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, হামলার পর ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া গেছে। তবে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
অন্যদিকে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানিয়েছে, তেহরান এসব দাবিকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি ও মেহের নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, খামেনি নিরাপদে আছেন এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি নিউজ–কে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প বলেন, “আমরা মনে করছি খবরটি সঠিক হতে পারে।” আর ফক্স নিউজ যুক্তরাষ্ট্রের এক কর্মকর্তার বরাতে জানিয়েছে, হামলায় ইরানের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা নিহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এদিকে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল–এ লিখেছেন, এটি ‘ন্যায়বিচারের অংশ’।
শনিবার ভোরে ইরানের বিভিন্ন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনায় হামলা চালানো হয় বলে দাবি করা হয়েছে। রাজধানী তেহরানে খামেনির কার্যালয় ও আবাসিক কমপ্লেক্সের আশপাশে বিস্ফোরণের পর ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়— এমন ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তবে এখনো পর্যন্ত খামেনির মৃত্যু নিয়ে কোনো স্বাধীন বা নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরস্পরবিরোধী দাবির ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বেড়ে যেতে পারে।
প্রকাশক ও সম্পাদকঃ রেজাউল হক(রনি),
কারিগরি সহযোগিতায়: অক্ষ টেক